পাট্টা কি? কারা পাট্টা পাওয়ার যোগ্য? সরকারি বা খাসের জমির পাট্টা আদায় করুন : পশ্চিমবঙ্গ
প্রথমে আমাদের জানতে হবে-
1. পাট্টা কি? ( what is patta land )
২. পাট্টা কারা পাওয়ার যোগ্য?
৩. একজন ব্যক্তি কতটুকু পাট্টা পাবেন?
৪. পাট্টা জমি হস্তান্তর করা যায় কি?
৫. আবার পাট্টা এর জন্য কোথায় গিয়ে কিভাবে আবেদন করতে হবে?( how to get patta for land )
পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ইতিমধ্যে বহু ভূমিহীন বাসিন্দাদের পাট্টা প্রদানের কর্মসূচী সম্পন্ন করা হয়েছে। পাট্টা এর জন্য যারা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন তাদের অনেকেই পাট্টা পেয়েছেন এবং অনেকে পাওয়ার পথে রয়েছেন। এই পাট্টা এর মাধ্যমে একজন বাসিন্দা তার নির্দিষ্ট বাসস্থান অথবা কৃষিজমি পেয়ে যান। যার ফলে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধার থেকে বঞ্চিত হওয়া থেকে রেহাই পান। ইতিহাস থেকে আমরা জানি রাজ্য রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্নীতি দূরীকরণে এবং প্রজাদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করতে সম্রাট শেরশাহ পাট্টা প্রথার প্রচলন করেছিলেন।
উপরের সবকটি প্রশ্নের সমাধান নীচে দেওয়া হয়েছে ।
১. পাট্টা কি? ( what is the patta land in wesb Bengal )
ভূমি-সংস্কার আইনের ৪৯ নং ধারা অনুসারে ভূমিহীন ব্যক্তিদের
জমির মালিকানা স্বত্ব দেওয়ার বিয়টিকে পাট্টা বলা হয়ে থাকে। অবশ্য এক্ষেত্রে জমিটি যদি
সরকারি ভেস্ট জমি হয়ে থাকে তাহলে উক্ত ব্যক্তিটিকে নির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে ওই জমিতে
কৃষিকাজ করার অধিকার দেওয়া হয়। অথবা সেখানে সেই ব্যক্তিকে বসবাস করার অধিকার দেওয়া
হয়ে থাকে।
২. পাট্টা কারা পাট্টা পাওয়ার যোগ্য?
সরকারি খাস জমিতে বসবাস বা কৃষিকাজ করছে যারা তাদেরকে পাট্টা
দেওয়া হয়ে থাকে।
অর্থাৎ,
(ক) যে ব্যক্তি সরকারি খাস জমি দখল করে আছেন।
(খ) সেই ব্যক্তির যদি কোন নিজস্ব জমি না থাকে অথবা যাদের
পরিবারে এক একরের কম জমি রয়েছে।
(গ) ভাগচাষী, বর্গাদার কিংবা অন্যের জমিতে কাজ করেন অর্থাৎ
এককথায় দিনমজুর ।
(ঘ) বিশেষ করে উদবাস্তু হিসেবে যারা চিহ্নিত অর্থাৎ অন্য
কোন স্থান থেকে এসে দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে বসবাস করছেন।
৩. একজন ব্যক্তি কতটুকু পাট্টা পাবেন?
একজন ব্যক্তির নামে ১ একর জমি পাট্টা হয়ে থাকে। সুতরাং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১ একর জমি পাট্টা ব্যবস্থায় পেতে পারেন।
৪. পাট্টা জমি হস্তান্তর করা যায় কি?
ভুমি সংস্কার আইনের ৪৯(১-এ) ধারা অনুসারে এই অধিকার হস্তান্তর
যোগ্য নয় কিংবা প্রাপ্ত জমিটি বিক্রি করা যায় না। অথবা পাট্টা গ্রহীতার মৃত্যু হলে
অন্য কেউ এসে সেই জমির পাট্টা ভোগ করতে পারবেন না।
তবে পাট্টা গ্রহীতার উত্তরাধিকারীরা সেই পাট্টা প্রাপ্ত জমিতে
বসবাস করতে পারবেন অথবা কৃষিকাজ করতে পারবেন। এর জন্য কিছু সরকারি আইন অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট
নির্দেশনামা রয়েছে সেগুলো মেনে তবেই একজন ব্যক্তি পাট্টা প্রাপ্ত জমি উত্তররাধিকার
সূত্রে ভোগ ব্যবহার করতে পারবেন।
৫. আবার পাট্টা এর জন্য কোথায় গিয়ে কিভাবে আবেদন করতে হবে?
মুলত পাট্টা এর জন্য আবেদন করতে হলে ভুমি সংস্কার অফিসে গিয়ে
আবেদন করতে হয় অথবা অনলাইন মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু তা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে অনেকটা সময়ের অপচয় এবং হয়রানির
স্বীকার হতে হয়। সে জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের
ব্যবস্থা করা হয়েছে ২০২০ সালে। এই দুয়ারে সরকার ক্যাম্প রাজ্যে প্রতিটি প্রান্তে নির্দিষ্ট
সময় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেখানে গিয়ে পাট্টা এর জন্য আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে আবেদন
করতে পারেন।
দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বসানোর উদ্দেশ্য হল মানুষের সময় বাঁচিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বা কাজ এর আবেদনের দ্রুত সমাধান প্রদান করা।
এই ক্যাম্পে অবশ্যই পাট্টা এর আবেদন ছাড়াও রাজ্যর বিভিন্ন সরকারি কাজের আবেদন করতে পারবেন। যেমন- রেশন কার্ড, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড, কন্যাশ্রী প্রকল্প, শিক্ষাশ্রী, রুপশ্রী, আঁধার কার্ডের সম্বন্ধিত, ভোটার কার্ড, লক্ষীর ভান্ডার , কৃষক বন্ধু ছাড়াও আরও অনেক ক্ষেত্রে নতুন আবেদন থেকে শুরু করে সংশোধনমূলক আবেদনগুলি গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

No comments